যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন অভিযোগ করেছেন, বিশ্বনেতাদের অপরিণামদর্শী যুদ্ধের সিদ্ধান্তের কারণেই উড়োজাহাজের টিকিটের দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের পরোক্ষ সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিটি যথাযথভাবে কার্যকর ছিল বলে উল্লেখ করেন ব্র্যানসন। তিনি জানান, সেই চুক্তি বাতিল করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপর।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মে মাসে ভার্জিন আটলান্টিক টিকিটের ওপর ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করতে বাধ্য হয়। এর ফলে ইকোনমি ক্লাসের টিকিটে ৫০ পাউন্ড, প্রিমিয়ামে ১৮০ পাউন্ড এবং বিজনেস ক্লাসে ৩৬০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তি খরচ যোগ হয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে প্রতি টন জেট ফুয়েলের দাম একসময় ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ১,৮০০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা বর্তমানে ১,৪৫০ ডলারের কাছাকাছি।
ভার্জিন আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্নিল কোস্টার জানিয়েছেন, জ্বালানির এই উচ্চমূল্যের কারণে সারচার্জ ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব। তবে উচ্চমূল্য সত্ত্বেও ভার্জিন তাদের শীতকালীন সূচিতে বড় কোনো কাটছাঁট করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। সংস্থাটির লক্ষ্য তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচির ৯৫ শতাংশ বহাল রাখা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে যাতায়াতের ব্যয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। রাইয়ানএয়ারের মতো অন্যান্য এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপে তাদের শীতকালীন ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। এদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।