যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হাউস মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিসকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ওজাহার আলীর ‘দ্য লেফট হুক’ পডকাস্টে ইসরায়েল বিরোধী সাংবাদিক রুলা জেব্রিল জেফ্রিসকে ‘আইপ্যাক মানকি’ বা বানর বলে আখ্যায়িত করেন। এই ঘটনা বর্ণবাদী ও অগ্রহণযোগ্য বলে কংগ্রেসনাল ব্ল্যাক ককাস (সিবিসি) এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পডকাস্টে জেব্রিল অভিযোগ করেন যে, জেফ্রিস আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি জেফ্রিসকে একজন ‘বিভাজনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে ‘আইপ্যাক মানকি’ বা বানর বলে গালি দেন। তবে সেই মুহূর্তেই তিনি দাবি করেন যে, তিনি এটি বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে বলেননি।
কংগ্রেসনাল ব্ল্যাক ককাস জেব্রিলের এই ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একজন কৃষ্ণাঙ্গ নেতাকে ‘বানর’ বা ‘এরান্ড বয়’ বলে সম্বোধন করার মধ্যে বর্ণবাদ নেই—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। এটি অশুভ ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা জো নেগুস এই বক্তব্যকে ‘বর্ণবাদী ও আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে সবার কাছে নিন্দার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া কংগ্রেসম্যান রিচি তোরেস মন্তব্য করেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বামপন্থীরা কেন নীরব রয়েছে।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে রুলা জেব্রিল তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে তার ব্যবহৃত শব্দটি ছিল অনুপযুক্ত এবং আপত্তিকর। তবে জনসচেতনতা বিশ্লেষকরা বলছেন, জেব্রিল ক্ষমা চাওয়ার সময় পুনরায় জেফ্রিসের বিরুদ্ধে আইপ্যাক থেকে অর্থ নেওয়ার পুরনো অভিযোগ তোলায় তার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।