যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগের সব ধরনের কাজ কানাডার সরকারের সঙ্গে আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান তীব্র বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগের আন্তর্জাতিক শাখার প্রধান লিন্ডা মার্শাল বুধবার কর্মকর্তাদের কানাডার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের নীতিগত আলোচনা ও মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া শুক্রবার বিভাগটির সেকশন প্রধানদের কানাডার সঙ্গে বর্তমানে চলমান সব সহযোগিতার একটি তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এমন কোনো নির্দেশ কাউকেই দেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্যমতে, একটি নির্দিষ্ট তদন্তের বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকটি কেবল সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অ্যান্টিট্রাস্ট টিম পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারে।
বাণিজ্য বিরোধের নেপথ্য
দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের অবনতি ঘটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে। এর অংশ হিসেবে ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখার নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। যদিও এই নামকরণ কেবল মার্কিন ফেডারেল সরকারের জন্য প্রযোজ্য, তবুও এটি দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পাল্টা পদক্ষেপ
ট্রাম্প প্রশাসন কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাত বেড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। ওয়াশিংটন যেভাবে শুল্ক বাড়িয়েছে, অটোয়াও সেভাবে ডলারের বিপরীতে ডলার শুল্ক আরোপ করে নিজেদের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় কাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।