বাংলাদেশের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি, জনসমর্থনের মাধ্যমে তাদের এই লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের প্রাণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। জোট নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে পর্যায়ক্রমে লংমার্চ করা হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার বাধা দিলে এই লংমার্চ একদফার আন্দোলনে রূপ নেবে।
তবে এই লংমার্চের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি একে অর্থ অপচয় ও জনদুর্ভোগ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে বিরোধী দলের এ ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় দেয়।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, এই কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততার চেয়ে দামি গাড়ির বহরই বেশি চোখে পড়েছে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে রাজনীতিক বিশ্লেষক ও সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এটি লংমার্চের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। বিরোধী দল হিসেবে সরকার গঠনমূলক বিকল্প পথ না দেখিয়ে মারমুখী অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।