যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স (এএআইসি) ২০২৬-এ ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমানোর উপায় সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার অনুসরণ সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শের তুলনায় বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি প্রায় ৫৫ শতাংশ উন্নত করতে পারে।
গবেষণাটি ল্যাটিন আমেরিকার ১১টি দেশে পরিচালিত হয়েছে, যা ‘ল্যাটিন আমেরিকান ইনিশিয়েটিভ ফর লাইফস্টাইল ইন্টারভেনশন টু প্রিভেন্ট কগনিটিভ ডিকলাইন’ বা ‘লাটআম-ফিঙ্গারস’ (LatAm-FINGERS) নামে পরিচিত। আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুই বছর ধরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আইরেসের নিউরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট ফেলেনি-এর গবেষক ড. লুসিয়া ক্রিভেলি জানান, এটি প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেছে যে, স্থানীয় সংস্কৃতি ও অভ্যাস অনুযায়ী জীবনযাত্রার পরিবর্তন এনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অংশগ্রহণকারীদের জীবনযাত্রায় ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করা হয়েছিল।
গবেষণার জন্য ১ হাজার ৬৫ জনকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দলটি নিয়মিত কোচিং, সুপারভাইজড ব্যায়াম, পুষ্টিবিষয়ক কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত সামাজিক সভার মতো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় দলটি কেবল সাধারণ স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু পরামর্শ পেয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কোচিং ও কাঠামোগত সমর্থনের মধ্যে ছিলেন, তাদের স্মৃতিশক্তি, নির্বাহী কার্যকারিতা এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি অন্যদের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি উন্নত হয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, একাধিক ঝুঁকির বিষয়কে একই সাথে মোকাবিলা করলে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে অধিক সুফল পাওয়া যায়। এই পদ্ধতি স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও কার্যকর একটি জনস্বাস্থ্য কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে।