যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রিটেইল কোম্পানি নেক্সট তাদের ওয়্যারহাউস কর্মীদের দোকানের কর্মীদের চেয়ে বেশি বেতন দেওয়ার নীতি বহাল রাখার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি জয় পেয়েছে। এমপ্লয়মেন্ট আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আগের একটি ঐতিহাসিক রায় আংশিক উল্টে দিয়েছে, যেখানে কোম্পানিটির এই বেতন বৈষম্যকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ওই রায়ের ফলে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী, যাদের অধিকাংশই নারী, প্রায় ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বকেয়া বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে আপিল ট্রাইব্যুনাল এখন মেনে নিয়েছে যে, কর্মী নিয়োগ এবং তাদের ধরে রাখার চাপের কারণে ওয়্যারহাউস কর্মীদের বেশি বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক ছিল।
নেক্সট কর্তৃপক্ষ এই রায়কে একটি ঐতিহাসিক জয় বলে বর্ণনা করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত করেছে যে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপের কর্মীদের ভিন্ন বেতন দেওয়া যৌক্তিক। তাদের মতে, এটি শুধু আইনগতভাবে সঠিক নয়, বরং সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানেরও জয়।
এদিকে দোকানের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ল ফার্ম লেই ডে এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছে এবং তারা উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে। তবে লেই ডে জানিয়েছে, নাইট শিফট, ওভারটাইম এবং বিশ্রামের বিরতির ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের আগের রায়টি আদালত বহাল রেখেছে। নেক্সট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়গুলোতেও উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদালত উভয় ক্ষেত্রেই এটি স্পষ্ট করেছে যে, নেক্সটের বেতন কাঠামোতে সরাসরি কোনো লিঙ্গবৈষম্য ছিল না। দোকানের কর্মীদের বড় অংশই নারী এবং ওয়্যারহাউসের কর্মীদের বড় অংশ পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও আদালত এই পর্যবেক্ষণ দেয়।
এই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে টেসেকো, আসদা, মরিসনস এবং সেইন্সবারির মতো রিটেইল চেইনগুলো, যারা একই ধরনের সমান বেতন সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেক্সটের এই বিজয় যুক্তরাজ্যের রিটেইল শিল্পে বেতন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের নজির স্থাপন করবে।