বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দায়িত্ব ও ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করেছে। সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলটি উপস্থাপন করা হয়। বিদ্যমান ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো, তদন্তের ক্ষমতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব আনার জন্যই এই আইন করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, মানবপাচার, গুম, ভূমিদস্যুতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সুরক্ষার জন্য এপিবিএনের অধীনে সাইবার সেল, হাজতখানা ও মালখানা তৈরির বিধান রাখা হয়েছে। এপিবিএন প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিআইপি ব্যক্তিদের সুরক্ষায় এপিবিএনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, এপিবিএনের কোনো সদস্য কাউকে গ্রেফতার করলে বা আলামত জব্দ করলে তা দ্রুত নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে। আদালতের নির্দেশে বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের অনুরোধে এপিবিএন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তদন্তে পুলিশ উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া যাবে।
এপিবিএন সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অপরাধ বিচারের জন্য দুটি নিজস্ব আদালত গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। বিশেষ ও সংক্ষিপ্ত—এই দুই ধরনের আদালতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত আইনে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে তথ্য বা দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না।
বর্তমানে পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় এপিবিএনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আইনটি যুগোপযোগী করা হচ্ছে বলে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।