যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল ওয়ালেট এবং অ্যাপল পে-এর মধ্যে পার্থক্য ও কাজের ধরন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাপল ওয়ালেট এবং অ্যাপল পে শব্দ দুটি অনেকে একই অর্থে ব্যবহার করলেও প্রযুক্তিগতভাবে এদের কাজ ভিন্ন। অ্যাপল ওয়ালেট হলো আইফোন বা অ্যাপল ওয়াচ-এর একটি অ্যাপ যা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, আইডি কার্ড, বোর্ডিং পাস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্ড জমা রাখার ডিজিটাল ভল্ট হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, অ্যাপল পে হলো একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা, যা ব্যবহার করে কেনাকাটার সময় সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যায়।
অ্যাপল পে ব্যবহারের প্রক্রিয়া
দোকানে বা অনলাইনে কেনাকাটার সময় অ্যাপল পে ব্যবহার করা হয়। স্টোরে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এনএফসি টার্মিনালে আইফোন ট্যাপ করে সাইড বাটন দুইবার চাপতে হয়। এরপর ফেস আইডি, টাচ আইডি অথবা পিন কোড দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করা হয়। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও কার্ড নির্বাচন করে একই পদ্ধতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। অ্যাপল ওয়ালেটে সংরক্ষিত যেকোনো কার্ডের মাধ্যমেই এই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যায়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অ্যাপল পে ব্যবহারের সময় কার্ডের মূল তথ্য সরাসরি বিক্রেতার কাছে যায় না। অ্যাপল প্রতিটি কার্ডের জন্য একটি অনন্য ‘ডিভাইস অ্যাকাউন্ট নম্বর’ (DAN) তৈরি করে যা ডিভাইসের সিকিউর এলিমেন্ট চিপে জমা থাকে। প্রতিটি লেনদেনের সময় এই নম্বর এবং একটি ওয়ান-টাইম সিকিউরিটি কোড প্রদান করা হয়। ফলে বিক্রেতা কখনোই গ্রাহকের আসল কার্ড নম্বর দেখতে পান না।
অ্যাপল ক্যাশ বা পি-টু-পি লেনদেন
বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠানোর সুবিধা দেয় অ্যাপল ক্যাশ, যা মূলত অ্যাপল পে-এর একটি অংশ। আইমেসেজের মাধ্যমে বা অ্যাপল ওয়ালেটে থাকা অ্যাপল ক্যাশ কার্ড ব্যবহার করে খুব সহজে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। তবে এই সেবা শুধুমাত্র অ্যাপল ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যাদের অ্যাপল আইডি নেই বা যারা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী, তারা এই সেবার আওতায় পড়েন না।
সারসংক্ষেপে, অ্যাপল ওয়ালেট হলো ডিজিটাল তথ্যের আধার, অ্যাপল পে হলো পেমেন্ট সম্পন্ন করার মাধ্যম এবং অ্যাপল ক্যাশ হলো ব্যক্তিগত লেনদেনের একটি বিশেষ ফিচার।