ইয়েমেনের বাব এল-মানদেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগত পেরিম দ্বীপটি দখল করে নিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি হাতছাড়া হওয়ার প্রেক্ষিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের প্রধান তেল পরিবহন পথ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মদিনার দক্ষিণে অবস্থিত এই পাইপলাইনের একটি স্থাপনায় হামলার পর সতর্কতা হিসেবে রিয়াদ পুরো নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এই ঘটনা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনটি ইরাকের অভ্যন্তর থেকে পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় ইরাক সরকার ইতোমধ্যে মাইসান প্রদেশের সেনাপ্রধান ও পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সামরিক সহায়তা চেয়ে ফোন করা হলেও ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি কোনো অভিযানে জড়াতে রাজি হয়নি। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।
ইরান ও আমেরিকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান। হরমুজ প্রণালি ছয় মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর সৌদি আরবের তেল রফতানির মূল নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। তবে পাইপলাইন বন্ধ ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা সংকটের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ওমানে গালফ দেশগুলোর সাথে প্রস্তাবিত আলোচনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।