যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় প্রতিরক্ষা শিল্পখাতের সরবরাহ সংকট কাটাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা। ডিএলএ বা ডিফেন্স লজিস্টিকস এজেন্সির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মার্ক সিমারলি এবং ডিএলএ ট্রুপ সাপোর্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শন কেলি সম্প্রতি এই বিষয়ে আলোচনা করেন। যুদ্ধের সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পখাতকে আরও কার্যকর করে তুলতে এই আধুনিক প্রযুক্তি অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিরক্ষা শিল্পখাত বর্তমানে নানামুখী চাপের মুখে রয়েছে। ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতের কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অন্যদিকে, জটিল সব সরঞ্জামের চাহিদা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলার সংকট এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এক্সেনচার ফেডারেল সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা গার্সিয়া ওলসন জানান, সামরিক প্লাটফর্ম তৈরির সনাতন পদ্ধতি বর্তমান সময়ে কৌশলগত দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। এটি পরিবর্তনের জন্য এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেস (ডিআইবি) বা প্রতিরক্ষা শিল্পখাতকে আর নিষ্ক্রিয় বা ধীরগতির রাখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এআই ও ডেটা বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যামি বাহারানি। তার মতে, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এআই সরবরাহ শৃঙ্খলার জটিলতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল টুইন ও রোবোটিক অটোমেশনের পাশাপাশি এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়াররা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেই নকশার ত্রুটি সংশোধন করতে পারছেন, যা বাস্তব উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি ত্বরান্বিত করছে।
এই নতুন প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে মানুষের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই অনেক কাজ সহজ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মীরা ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায়, তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় আয়োজিত ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেস এক্সিলারেটর (ডিআইবিএক্স) শীর্ষক সম্মেলনে এআইয়ের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগে বিপ্লব আনার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।