যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ডেটে গিয়ে গোপনে মেটা স্মার্ট চশমায় ভিডিও ধারণের শিকার হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। কর্টনি ম্যাকআনফ নামের এক নারী জানিয়েছেন, তার সঙ্গী ডেটে এমন চশমা পরে এসেছিলেন যা দিয়ে ব্যবহারকারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করা যায়। সঙ্গীর অনুমতি ছাড়াই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ঘটনাটি আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের সংকট নিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
স্মার্ট চশমার মাধ্যমে গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনা বাড়ছে, যাকে অনেকে ‘ক্রিপ গ্লাস’ বা ভীতিজনক চশমা হিসেবে অভিহিত করছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, স্মার্টফোনের ক্যামেরা সামনে থাকলে আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকে, কিন্তু স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারী গোপনে ভিডিও করায় সেই সুযোগ পাওয়া যায় না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস। ডেটিংয়ের সময় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রযুক্তির এমন ব্যবহার সম্পর্কের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে এবং অবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে।
প্রযুক্তি ও নীতিমালা
মেটার স্মার্ট চশমায় রেকর্ডিং চলাকালীন একটি ছোট এলইডি লাইট জ্বলে ওঠে, তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা তা নিষ্ক্রিয় বা গোপন করার উপায় বের করে ফেলছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে এমন ঘটনার দায়ে একজনের বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে। বিষয়টি নিয়ে মেটা ও রে-ব্যান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন প্রণেতারা রেকর্ডিং ডিভাইসে দৃশ্যমান নির্দেশক বাধ্যতামূলক করার আইন পাসের পথে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াও স্মার্ট চশমায় ধারণকৃত ভিডিওতে মানুষের মুখ অস্পষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
মেটা জানিয়েছে, তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ ও হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। একইসঙ্গে তারা স্মার্ট চশমার অপব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, ডেটিংয়ের মতো ব্যক্তিগত মুহূর্তে প্রযুক্তির এই হস্তক্ষেপ সম্পর্কের গোপনীয়তাকে চরম হুমকিতে ফেলছে, যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও কঠোর সামাজিক ও আইনি সচেতনতা প্রয়োজন।