ইউক্রেনের খারকিভ ও খারসন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী এবং আঞ্চলিক গভর্নরদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চালানো এই হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। যুদ্ধের আবহে কৃষ্ণ সাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা এই সংঘাতের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শনিবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাশিয়া ও দখলকৃত ক্রিমিয়া থেকে ১৭৪টি ড্রোন এবং কুরস্ক অঞ্চল থেকে দুটি জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪১টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ১৫টি এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বা ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিহুভভ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, খারসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর প্রকুদিন জানিয়েছেন, ২৫টি এলাকায় গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সেখানে বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি, মোবাইল টাওয়ার ও গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দনেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও ১০টির বেশি হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ‘গেরান-৪’ ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ওডেসাগামী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং বন্দরে নোঙর করা একটি ট্যাংকারে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিল।
ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি এই হামলার দায় চাপাচ্ছে। তবে দুই পক্ষের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির এই তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।