যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস লুইস-ম্যাককর্ডে ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক গোয়েন্দা নজরদারি (ISR) সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপ এয়ারবর্ন এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্যগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ড্রোন, বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তির সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ড্রোন প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
মার্কিন বিমান বাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মিঙ্ক জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে ১০০টি এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন ধরনের ম্যাসড মডুলার এয়ারক্রাফট (MMA) ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিমান বাহিনীর চিফ মডার্নাইজেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার নিয়েমি জানান, ড্রোন পরিচালনার ইন্টারফেসকে আরও সহজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ড্রোনগুলোকে প্রচলিত স্টিক ও থ্রটলের পরিবর্তে মাউস ও কিবোর্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, যাতে একজন অপারেটর সহজেই বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।
এদিকে ইউএস মেরিন কোরও নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরির কাজ করছে। তারা এমন সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যরা সহজে এক ড্রোন থেকে অন্য ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।
মহাকাশ ও নজরদারি ব্যবস্থা
যুদ্ধক্ষেত্রের স্পষ্ট চিত্র পেতে ড্রোন ও বিমানের পাশাপাশি স্যাটেলাইট ভিত্তিক নজরদারি এখন অপরিহার্য। স্পেস ফোর্স ডেল্টা সেভেন এই মহাকাশ ভিত্তিক আইএসআর কার্যক্রম দেখভাল করছে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সক্ষমতার বিপরীতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র সচেষ্ট। চীন ইতোমধ্যে ৫০০টিরও বেশি নজরদারি স্যাটেলাইট মোতায়েন করেছে এবং রাশিয়া স্যাটেলাইট ধ্বংসের মতো প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে।
নিজেদের সুরক্ষায় মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন বিমান বাহিনী সেক্রেটারি ট্রয় মিঙ্ক। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় এবং নিজেদের বাহিনীকে সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র মোতায়েন রেখেছে।