পাপুয়া নিউগিনির গভীর অরণ্যে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির একটি সাপের নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত রক ব্যান্ড গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্লাশের নামে। ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষকরা নতুন এই প্রজাতিটির নাম দিয়েছেন ‘লিয়েলাফিস স্লাশি’ (Lielaphis slashi)। সরীসৃপের প্রতি শৈশব থেকে স্লাশের গভীর অনুরাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তার সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানীরা এই সম্মান জানিয়েছেন।
নতুন এই সাপের প্রজাতিটি বিষমুক্ত। এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গবেষকরা জানিয়েছেন, সাপটি লম্বায় ২৮ ইঞ্চির মতো এবং লালচে-বাদামী রঙের। এদের চোয়ালের পেছনের দিকে বড় দাঁত থাকে, যা দিয়ে এরা পিচ্ছিল গিরগিটি বা সরীসৃপের ডিম শিকার করতে সক্ষম।
নিজের নামে নতুন সাপের নামকরণের বিষয়ে স্লাশ বলেন, সরীসৃপ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এমন একটি সম্মান পাওয়া তার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। তিনি জানান, এমন কিছু কল্পনাও করেননি।
গবেষণার নেপথ্যে থাকা ফিল্ড মিউজিয়ামের হার্পেটোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কিউরেটর সারা রুয়ানে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি স্লাশের বড় ভক্ত ছিলেন। অনেক বছর আগে একটি ম্যাগাজিনের কভারে স্লাশকে পোষা পাইথন নিয়ে থাকতে দেখে তার সরীসৃপবিদ্যার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। পরবর্তী সময়ে নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করার পর তিনি স্লাশের সরীসৃপ প্রীতির কথা ভেবেই এই নাম চূড়ান্ত করেন।
লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল সায়েন্সের অধ্যাপক ক্রিস অস্টিন ২০০৬ সালে নিউগিনির বনাঞ্চলে প্রথম এই সাপটি দেখতে পান। পরবর্তীতে জেনেটিক বিশ্লেষণ এবং স্কেলের সংখ্যার মতো শারীরিক পার্থক্য যাচাই করে এটি যে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি, তা নিশ্চিত করেন বিজ্ঞানীরা।
বর্তমানে কফি চাষ ও খনি খননের মতো শিল্প কার্যক্রমের কারণে পাপুয়া নিউগিনির বনাঞ্চল ও এর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অঞ্চলটির পরিবেশগত ভারসাম্য বুঝতে এবং বিভিন্ন প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এই ধরনের আবিষ্কার ও নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।