যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার নতুন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘মিউজ’ নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইনক ম্যাগাজিনের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর জেসন এটেন অভিযোগ করেছেন যে, অনুমতি ছাড়াই তার মেসেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এই এআই। প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক টেরেন্স ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জেসন এটেন মেটার থ্রেডস প্ল্যাটফর্মে একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, মিউজ এআইটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মেসেজের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে কিছু প্রশ্ন করছে। অথচ ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, তিনি মিউজকে তার মেসেজ বা ব্যক্তিগত তথ্য পড়ার কোনো অনুমতি দেননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এআইটি অদ্ভুতভাবে জানায় যে, সেটি মেসেজ হিস্ট্রি না পড়লেও নোটিফিকেশন প্রিভিউ থেকে তথ্য পাচ্ছে।
এই অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর উত্তরের পর মেটা সুপারইনটেলিজেন্স ল্যাবের ডেভিড সিঙ্গেলটন বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মিউজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন পর্যবেক্ষণ করে না। তিনি আরও জানান, ব্যবহারকারী যদি নিজে থেকে ম্যাক অ্যাপে অনুমতি প্রদান করেন, কেবল তখনই এটি মেসেজ থেকে ডেটা সিঙ্ক করতে পারে। জেসন এটেনের ক্ষেত্রে এআইটি নিজের কার্যপদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভুল তথ্য প্রদান করেছে।
মেটা কর্তৃপক্ষ এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে যে, মিউজ কেন এমন বিভ্রান্তিকর উত্তর দিল তা নিয়ে তারা কাজ করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটবটগুলো অনেক সময় নিজের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে পারে না, যা ব্যবহারকারীদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।