যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে কানাডার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ সংস্থা (ডিআইএ) অটোয়াভিত্তিক কোম্পানি টেলিস্যাটের সাথে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপদ সামরিক যোগাযোগ (এমআইএলএসএটিসিওএম) স্থাপনের জন্য ২.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বা ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে কানাডার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ফুহর।
এনহান্সড স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস প্রজেক্ট-পোলার (ইএসজিপি-পি) আওতায় টেলিস্যাট আগামী পাঁচ বছর সামরিক কা-ব্যান্ড সংযোগ প্রদান করবে। এছাড়া চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে টেলিস্যাটের লাইটস্পিড লো আর্থ অরবিট (লিও) নেটওয়ার্কে ৬৯টি অতিরিক্ত কৃত্রিম উপগ্রহ যুক্ত করা হবে। ফলে কোম্পানির মোট স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১৫৬ থেকে বেড়ে ২২৫-এ উন্নীত হবে। এই নতুন উপগ্রহগুলো তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে কানাডার এমডিএ কোম্পানি। ২০২৮ সাল থেকে ৬৫ থেকে ৯০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এই পরিষেবা চালু হবে।
আর্কটিকের প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে ফাইবার অপটিক বা প্রচলিত ভূ-স্থির উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন। তবে টেলিস্যাটের নতুন এই নেটওয়ার্ক লেটেন্সি কমিয়ে একটি স্বয়ংক্রিয় ও শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এটি সমুদ্রের তলদেশের ফাইবার ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকল্প সংযোগ নিশ্চিত করবে।
রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমি স্পাইসার-ব্ল্যাঞ্চেট জানান, এই নেটওয়ার্ক আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর কমান্ড ও সমন্বয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। একইসাথে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ প্রতিরক্ষা কমান্ড বা নোরড (NORAD)-এর আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সেখানে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় টেলিস্যাটের এই নেটওয়ার্ক কানাডার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশলে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা করছে।