ঢাকাThursday , 6 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

অস্ট্রেলিয়ার পানির নিচের গুহায় পাওয়া হাড় থেকে বিলুপ্ত প্রাণীর রহস্য উদ্ঘাটনের সম্ভাবনা


August 5, 2026 9:15 pm
Link Copied!

অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট গ্যাম্বিয়ারের পানির নিচের গুহাগুলোতে পাওয়া প্রাণীর হাড় বিশ্লেষণ করে বিলুপ্ত বিশালকায় প্রাণীদের সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, পানির নিচের গুহার বিশেষ পরিবেশ হাড়ের ওপর এক ধরনের স্বতন্ত্র ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা চিহ্ন রেখে যায়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন নিশ্চিত হতে পারবেন কীভাবে প্রাচীন মেগাফাউনা বা বিশাল আকৃতির প্রাণীদের অবশিষ্টাংশ এই জলমগ্ন স্থানে জমা হয়েছিল।

গবেষণার মূল দিক

গবেষক দলের সদস্য মেগ ওয়াকার জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার দুটি ভিন্ন গুহা ব্যবস্থা থেকে হাড় সংগ্রহ করেছেন। এর মাধ্যমে দেখা গেছে যে, গুহার পরিবেশভেদে হাড়ের সংরক্ষিত হওয়ার ধরন ভিন্ন হয়। আলোর উপস্থিতি, শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া এবং পানির রাসায়নিক উপাদানের ওপর ভিত্তি করে হাড়ের ওপর আলাদা ছাপ পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পানির নিচের গুহাগুলো হাড়ের গঠন দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম। গুহার প্রবেশমুখে যেখানে আলো পৌঁছায়, সেখানে শৈবাল বা উদ্ভিদ জন্মানোর কারণে হাড়ের ওপর আলাদা চিহ্ন তৈরি হয়। অন্যদিকে, গুহার ভেতরের অন্ধকার অংশে যেখানে আলো পৌঁছায় না, সেখানে হাড়গুলো অনেকটা আদি ও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।

কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা পানির নিচের গুহায় প্রাণীর হাড়ের জমার প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন স্পষ্ট ধারণা পাননি। নতুন এই গবেষণার ফলে জীবাশ্মবিদরা এখন মেগাফাউনা বা বিলুপ্ত প্রাণীদের জীবনধারা এবং তাদের মৃত্যুর পরবর্তী পরিবেশ সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারবেন। এই পদ্ধতি প্রত্নতত্ত্ব এবং জীবাশ্মবিদ্যার গবেষণায় বিশ্বজুড়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

গবেষণার পটভূমি

গবেষক দলটি অস্ট্রেলিয়ার কেভ ডাইভারস অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় গ্রিন ওয়াটারহোল এবং গোল্ডেনস সিঙ্কহোল থেকে হাড় সংগ্রহ করেছিল। এসব হাড়ের মধ্যে ক্যাঙ্গারু, ইমু, ডিনগোসহ বিভিন্ন বুনো ও পোষা প্রাণীর অবশিষ্টাংশ রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, কিছু নমুনা ১৮৪০-এর দশকে ইউরোপীয়দের আগমনের সময়ের হতে পারে। এই আধুনিক হাড়গুলোর ওপর পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা বিলুপ্ত বিশাল প্রাণীদের ফসিলের গঠন প্রক্রিয়া বুঝতে চাচ্ছেন। গবেষণাটি সম্প্রতি পিএলওএস ওয়ান (PLOS One) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।