বাংলাদেশের ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক লোকেশন, লগিং হিস্ট্রি এবং চ্যাট হিস্ট্রির তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই তথ্য সংগ্রহ মামলাটি তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, মোজাফফর হোসেন ফেসবুক মেসেঞ্জারে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন। মেটার কাছে পাঠানো ই-মেইলে তার এই কথোপকথনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া, মোজাফফরের মুছে ফেলা ফেসবুক চ্যাটগুলো উদ্ধারের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ১৬ জুলাই মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোজাফফরের সাথে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও একই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হেফাজতে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৬ বছর ধরে মোজাফফর ও মাসুদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং পলাতক থাকা অবস্থায় মোজাফফর বারবার প্রতিবেশী দেশে যাতায়াত করেছেন।