যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের প্রোভো শহরে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাভোগ করার পর মুক্তি পেয়েছেন ৭১ বছর বয়সী ডগলাস স্টুয়ার্ট কার্টার। সাম্প্রতিক ডিএনএ পরীক্ষায় অপরাধস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে তার ডিএনএর মিল না পাওয়ায় প্রসিকিউটররা তাকে মুক্তি দেওয়ার পক্ষে মত দেন। সোমবার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে জিপিএস মনিটর পরিধানের শর্ত দেওয়া হয়েছে এবং একটি নতুন বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
১৯৮৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ইভা ওলেসেন নামের এক নারীকে তার বাড়িতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ডগলাস কার্টার নিজের নির্দোষ হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। পুলিশি জেরা ও নির্যাতনের মুখে তিনি জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে তার অভিযোগ। মামলার সময় কোনো ফরেনসিক প্রমাণ তার বিপক্ষে ছিল না, কেবল তৎকালীন দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও কার্টারের জবানবন্দিকে ভিত্তি করে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে ওই দুই সাক্ষী স্বীকার করেন যে, পুলিশি চাপে তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং বিনিময়ে অর্থ ও উপহার পেয়েছিলেন।
গত বছর ইউটাহ সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের অসদাচরণের কথা উল্লেখ করে নতুন করে বিচারের আদেশ দেয়। এরপর নতুন ডিএনএ বিশ্লেষণে ওলেসেনকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি এবং দরজার হাতল থেকে পাওয়া রক্ত ও জেনেটিক নমুনায় কার্টারের অস্তিত্ব মেলেনি। বিচারক ডেরেক পুলান জানিয়েছেন, এই নতুন প্রাপ্তি মামলার ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে।
কার্টারের আইনজীবী নীল হ্যামিল্টন জানিয়েছেন, দীর্ঘ বন্দিজীবন কাটাতে গিয়ে কার্টার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তাই তাকে থেরাপির প্রয়োজন হবে। আইনজীবীর মতে, যদি দ্রুত তদন্তে ত্রুটি ধরা পড়ত তবে কয়েক দশক আগেই তিনি মুক্তি পেতেন। কার্টারের বিরুদ্ধে থাকা হত্যার অভিযোগগুলো খারিজ করার জন্য প্রসিকিউটরদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে ওলেসেনের পরিবার এখনও কার্টারের মুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং হত্যার বিচারের জন্য পূর্ণ নিশ্চয়তা চেয়েছে।