যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারে বাস করা ডিআইওয়াই ইনফ্লুয়েন্সার জেসমিন গার্নি বলছেন, তার করা ঘরোয়া সংস্কারমূলক কাজের ভিডিও দেখে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্য করলেও তা তাকে দমানোর বদলে উল্টো উৎসাহ দেয়। জেসমিন মনে করেন, তার এই কার্যক্রম অন্যান্য নারীদেরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। তিনি নিজেই দেয়ালে পার্টিশন নির্মাণ, মেঝে পরিবর্তন, বেড়া তৈরি থেকে শুরু করে আসবাব তৈরির মতো কঠিন সব কাজ সম্পন্ন করেন, যা আগে মূলত পুরুষদের কাজ হিসেবেই পরিচিত ছিল।
জেসমিন জানান, কোভিড মহামারীর সময় যখন পেশাদার কর্মীদের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন থেকেই তিনি ঘরোয়া মেরামতের কাজগুলো নিজেই শুরু করেন। বর্তমানে তার মতো অনেকেই এই কাজের মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন। বিঅ্যান্ডকিউ-এর ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেন জি প্রজন্মের নারীরা ঘরোয়া মেরামতের কাজে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
পেশাদার কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন
শুধু শখ নয়, অনেক নারী এখন পেশা হিসেবেও নির্মাণ খাত বা প্লাম্বিংকে বেছে নিচ্ছেন। লন্ডনের বাসিন্দা ব্লিস কানিন এমন একজন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে প্লাম্বিং পেশায় যোগ দিয়েছেন। তিনি জানান, শুরুতে গ্রাহকদের কিছুটা সংশয় থাকলেও কাজের দক্ষতার মাধ্যমে তিনি এখন নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
এই পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্মগুলোতেও। অ্যানা মইনিহানের প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘টাস্কহার’ (TaskHer) নারীদের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। অ্যানার ভাষ্যমতে, চলতি বছর তার প্ল্যাটফর্মে নারী কর্মীদের নাম নিবন্ধনের হার আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। উচ্চশিক্ষিত নারীরাও এখন করপোরেট চাকরি ছেড়ে এই খাতে যোগ দিচ্ছেন, কারণ তারা মনে করছেন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই পেশাগুলো বেশি সুরক্ষিত।
প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো ৪ শতাংশের মতো হলেও, আশার কথা হলো নির্মাণ বিষয়ক শিক্ষানবিশি বা অ্যাপারেন্টিসশিপে নারীদের হার বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারীরা যখন প্রকাশ্যে এই ধরনের কাজ করবেন, তখন তা সামাজিকভাবে আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ‘তুমি যা দেখতে পাবে না, তা হতে পারবে না’—এই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই নারীদের এই সাহসী পদযাত্রা অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করছে।