ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ইউক্রেনের পাশে প্যারিসে বিশ্বনেতাদের সম্মেলন, কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাল ক্রেমলিন

International Desk
July 16, 2026 10:00 am
Link Copied!

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলা এবং কিয়েভকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্যারিসে জড়ো হয়েছেন পশ্চিমা বিশ্বের শীর্ষ নেতারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে। মস্কো সরাসরি এই জোটকে ‘যুদ্ধবাজদের সম্মেলন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের শান্তি প্রচেষ্টার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংক্ষেপে যা জানা গেছে

  • প্যারিসে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
  • সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো কিয়েভকে বাড়তি সামরিক ও মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।
  • প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজে উপস্থিত থেকে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর মিত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
  • ক্রেমলিন এই সম্মেলনকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘যুদ্ধবাজদের জোট’ বলে কটাক্ষ করেছে।
  • মস্কোর দাবি, এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া কোনো নেতাই ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী নয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

সোমবার প্যারিসে আয়োজিত এই সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা অংশ নিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও রাশিয়ার আক্রমণের তীব্রতা কমেনি, বরং বর্তমানে কিয়েভকে গোলাবারুদ ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রের ঘাটতির মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই সংকটময় মুহূর্তে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন অটুট রাখা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করাই ছিল বৈঠকের মূল এজেন্ডা।

সম্মেলনের লক্ষ্য কেবল অস্ত্র সরবরাহ নয়, বরং রাজনৈতিক সংহতি প্রদর্শন করা। ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে মিত্ররা নতুন করে কোন কৌশলে এগোবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এই বৈঠকের ঠিক পরপরই ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, যারা এই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন, তারা ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নিজেদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বজায় রাখতে আগ্রহী। ক্রেমলিন মনে করে, এই ধরনের সম্মেলন পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়াবে।

বিশ্লেষণ

প্যারিসের এই সম্মেলনটি বর্তমান ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যুদ্ধের ক্লান্তি ও সামরিক সরঞ্জামের অভাব যখন ইউক্রেনের জয়কে অনিশ্চিত করে তুলছে, অন্যদিকে তখন মিত্রদের এই সভা পশ্চিমা ঐক্যের একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ক্রেমলিনের কড়া প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে, রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর যে কোনো পদক্ষেপকে তারা সরাসরি হুমকি হিসেবেই দেখছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ‘উইলিনগনেস কোয়ালিশন’ বা ‘ইচ্ছুক জোট’ রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে সফল হলেও, মস্কোর অনড় অবস্থানের কারণে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। প্যারিস সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যদি কার্যকর হয়, তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত হবে, কিন্তু এতে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। মোটের ওপর, এই সম্মেলন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য একটি আস্থার প্রতীক হলেও, শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

সূত্র: rfi.fr