বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ও নেতিবাচক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় ৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। দ্বীনি এই শিক্ষা ব্যবস্থার ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীলদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন।
কওমি মাদরাসার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুদান ছাড়াই জনগণের সহায়তায় হাজার হাজার এতিম ও দুস্থ শিশুর দায়িত্ব পালন করছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর চাপ কমায়। তবে শিশুদের প্রতি শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব অপরাধ ধামাচাপা না দিয়ে কঠোর আত্মসংশোধনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবসমূহ
শায়খ আহমাদুল্লাহ আল-হাইআতুল উলয়া ও বেফাকসহ শীর্ষ বোর্ডের নিকট নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন:
১. স্বাধীন তদন্ত কমিটি ও ব্ল্যাকলিস্ট: অভিযোগ তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, দোষীদের রাষ্ট্রীয় আইনের হাতে সোপর্দ করা এবং অপরাধীদের কেন্দ্রীয়ভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা।
২. অভিযোগ সেল: ভিক্টিমদের জন্য গোপনীয় হটলাইন ও অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা।
৩. অবকাঠামোগত সংস্কার: মাদরাসার ক্লাসরুম ও আবাসিক বিভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, অনাবাসিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত সেবা নেওয়া নিষিদ্ধ করা।
৪. শিক্ষক ও স্টাফদের পরিবেশ উন্নয়ন: শিক্ষকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি, শিশু সুরক্ষা প্রশিক্ষণ এবং তাদের পারিবারিক জীবন স্বাভাবিক রাখতে ফ্যামিলি কোয়ার্টারের ব্যবস্থা করা।
৫. নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মহিলা মাদরাসাগুলো সম্পূর্ণ নারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা এবং পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ বর্জন করা।
৬. মান নিয়ন্ত্রণ: যত্রতত্র গড়ে ওঠা মানহীন প্রাইভেট মাদরাসাগুলো বন্ধ করে কেন্দ্রীয় বোর্ডের নিবন্ধনের আওতায় আনা।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় বোর্ডগুলো শক্তিশালী মনিটরিং ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, মানুষের ভরসার জায়গা হিসেবে কওমি মাদরাসার পবিত্রতা রক্ষায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।