কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে দাবানলের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। এর প্রভাবে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া টরন্টো শহরকে পুরোপুরি গ্রাস করেছে, যার ফলে শহরটির বায়ুর গুণমান মারাত্মক পর্যায়ে অবনতি হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- কানাডার উত্তরাঞ্চলীয় অন্টারিওতে শতাধিক সক্রিয় দাবানল এখনো জ্বলছে।
- ১৫ জুলাই টরন্টোর বায়ুর গুণমান বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল।
- ঘন ধোঁয়ার কারণে বহু নাগরিক শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
- স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কানাডার উত্তরাঞ্চলে চলমান শতাধিক দাবানল বর্তমানে জনজীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া দক্ষিণ দিকে সরে এসে টরন্টো শহরের আকাশ ঢেকে ফেলেছে। গত ১৫ জুলাই টরন্টোর বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়, যা শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের নগরীতে পরিণত করে।
শহরের আকাশে ঘন ধোঁয়ার চাদর তৈরি হওয়ায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে যে, বাতাসের ধূলিকণা ও ধোঁয়ার কণাগুলো মানবদেহের ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর প্রভাবে বাসিন্দাদের মধ্যে চোখ জ্বালাপোড়া করা, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিজনিত জটিলতা ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন চিকিৎসকরা।
বিশ্লেষণ
কানাডায় প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে দাবানল স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন ও ভয়াবহ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তপ্ত আবহাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দাবানল নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। টরন্টোর মতো একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহরে বায়ুর গুণমান এভাবে ভেঙে পড়া মূলত পরিবেশগত সংকটের বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্য খাতের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং কানাডার অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দাবানল নিয়ন্ত্রণে না এলে ধোঁয়ার প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: france24.com