যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বিশেষ ধরনের শক গ্লাভস কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যা আইসিই (ICE) কর্মকর্তাদের সন্দেহভাজনদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক কোম্পানি কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের তৈরি এই গ্লাভস ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো তীব্র যন্ত্রণাদায়ক বৈদ্যুতিক শক প্রদানের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুকে কাবু করা।
প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে
গ্লোভ (GLOVE) বা জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ ইমিটার নামের এই প্রযুক্তি প্রচলিত স্টান গান বা টেজার থেকে আলাদা। এটি স্নায়ুতন্ত্র অচল করে দেওয়ার পরিবর্তে স্নায়ুর সংবেদনশীল প্রান্তগুলোকে অতিমাত্রায় উত্তেজিত করে তোলে, যা সাময়িকভাবে মানুষের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত ও পেশি নিয়ন্ত্রণহীন করে ফেলে। গ্লাভসের হাতের তালু ও আঙুলে থাকা কন্ডাক্টিভ প্যাড থেকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বৈদ্যুতিক পালস সরাসরি ত্বকে অনুভূত হয়।
কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা
এই গ্লাভসগুলো সর্বোচ্চ ৩৮০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সক্ষম। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, এটি ব্যবহারে কোনো ক্ষত বা দাগ তৈরি হয় না। তবে এই ডিভাইসটি কার্যকর হওয়ার জন্য সরাসরি খালি ত্বকের সংস্পর্শ প্রয়োজন। শুকনো পোশাক বা ঘন চুলের ওপর দিয়ে এটি কাজ করে না। এছাড়া গ্লাভসগুলো পানিতে ভিজলে অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ব্যবহার বিধি ও সতর্কবার্তা
নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির ওপর সর্বোচ্চ ১৫ সেকেন্ডের বেশি টানা শক দেওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া মাথা, গলা, বুক ও কুঁচকির মতো সংবেদনশীল স্থানে এটি ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে। গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার নিয়ে শঙ্কা
ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল ক্রাউলি এই প্রযুক্তির ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্যই হলো কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে শারীরিক যন্ত্রণার আশ্রয় নেওয়া। তিনি এটিকে সহজাতভাবে আপত্তিকর প্রযুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য এর উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন।