ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা (BNPB) নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৯২ সালের একই ধরনের দুর্যোগে এখানে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পরপরই ৫.৯, ৫.৬ এবং ৬.১ মাত্রার তিনটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।
BNPB-এর তথ্য অনুযায়ী, মাউমেরে বন্দরে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে সরে গিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সংস্থা (BMKG)।
BNPB কর্মকর্তা আবদুল মুহারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উপকূলীয় বাসিন্দাদের অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতরে অথবা ১০ মিটার উঁচু পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, ফ্লোরেস দ্বীপের ৫ লাখেরও বেশি মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন। রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে থাকে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।