যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়মিত যুদ্ধজাহাজ চলাচলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা এশিয়ায় মার্কিন কৌশলগত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং যখন তাইওয়ানকে ঘিরে নিয়মিত সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে, তখন মার্কিন রণতরীর এই বিরতি বেইজিংকে আরও সাহসী করে তুলতে পারে।
বিভিন্ন তথ্য ও সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রকাশ্যে চলাচল আগের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ শতাংশ কমেছে। বাইডেন প্রশাসন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় এই সংখ্যায় বড় ধরনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কেন এই হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ান প্রণালীকে নিজেদের জলসীমা হিসেবে দাবি করে আসছে চীন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয় না। মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বেইজিংয়ের এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি তাইওয়ানের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি প্রতীকী বার্তা প্রদান করে। নিয়মিত ট্রানজিট তাইওয়ান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে মার্কিন অঙ্গীকারের নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করে।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা
২০২২ সালের পর থেকে তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে চীনের নৌ ও বিমানবাহিনীর তৎপরতা রুটিন কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি থেকে ছয়টি চীনা যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ানকে ঘিরে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করা এবং তাইওয়ানিজ জাহাজে অবৈধ তল্লাশির মতো ঘটনাগুলো বেইজিংয়ের কৌশলী চাপের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাইলেন্ট ট্রানজিট বা নীরব চলাচল
কেউ কেউ মনে করেন, বেইজিংয়ের সাথে উত্তেজনা কমাতে মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে ‘সাইলেন্ট ট্রানজিট’ বা প্রকাশ্যে ঘোষণা না দিয়ে চলাচল করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রকাশ্যে ঘোষিত নৌ-অপারেশন মিত্রদের কাছে যে জোরালো সংকেত পাঠায়, গোপন যাতায়াত তা নিশ্চিত করতে পারে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন কৌশলের কারণে মিত্রদেশগুলো ওয়াশিংটনের অটল প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।