যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংগীতশিল্পী ও গোপনীয়তা রক্ষা কর্মীরা सार्वजनिक স্থানগুলোতে বায়োমেট্রিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধের দাবি জানিয়েছেন। সিটি কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফসহ অংশগ্রহণকারীরা এই উদ্যোগকে ‘ব্যান দ্য স্ক্যান’ বা স্ক্যান নিষিদ্ধ করার আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে তারা ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মতো ভেন্যুগুলোতে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
জানুয়ারি মাসে শাহানা হানিফ সিটি কাউন্সিলে একটি বিল প্রস্তাব করেন, যার উদ্দেশ্য হলো পাবলিক ভেন্যুতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন কর্তৃপক্ষ অনেকদিন ধরেই দর্শকদের ওপর এই প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য পরিচিত। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জেমস ডোলানের সমালোচক বা নিউ ইয়র্ক নিক্স বাস্কেটবল দলের ওপর ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের ওপর নজরদারি চালানো হয়। এমনকি কোনো আইনজীবী যদি ডোলানের মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিবাদে জড়ান, তবে তাকে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ সেলিব্রিটি ও ভিআইপি অতিথিদের নিয়ে একটি রিস্ক স্কোর ডাটাবেজ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব নথিতে ব্যক্তিদের বর্ণ ও যৌন পরিচয়ের মতো সংবেদনশীল তথ্যও রাখা হয়। এই নজরদারি কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শাহানা হানিফ জানিয়েছেন, তার এই প্রস্তাবিত বিলের পক্ষে সিটি কাউন্সিলের অর্ধেকের বেশি সদস্য সমর্থন দিয়েছেন। বর্তমানে কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনের সঙ্গে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এই অভিযোগের জবাবে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই একে অপরের মুখ চেনে, তারা কেবল সেই কাজটি ইলেকট্রনিক উপায়ে করছেন।
শাহানা হানিফ আরও বলেন, নিউ ইয়র্কবাসীর বোঝা উচিত যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন নজরদারি সরঞ্জাম নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বিক্রি করা হলেও তা আদতে নাগরিকদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। পোস্ট-নাইন ইলেভেন নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা এক মুসলিম হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নজরদারির এই নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।