যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় ১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানী ক্লাইড কোয়ান ও ফ্রেডরিক রাইনস প্রথম নিউট্রিনো শনাক্তের ঘোষণা দেন। এই সূক্ষ্ম কণাগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর কোনো ভর বা চার্জ নেই বললেই চলে এবং এরা পৃথিবীর যেকোনো পদার্থের ভেতর দিয়ে বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে। ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানী উলফগ্যাং পাউলি প্রথম এই রহস্যময় কণার অস্তিত্বের ধারণা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে মহাবিশ্বের গাঠনিক রহস্য বুঝতে অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য পৃথিবীর গভীরে এবং প্রতিকূল পরিবেশে বিশাল সব পরীক্ষাগার নির্মাণ করেছেন। ১৯৬০-এর দশকে সাউথ ডাকোটার হোমেস্টেক খনিতে রেমন্ড ডেভিস জুনিয়র প্রায় ৪ লাখ লিটার পরিষ্কারক তরল ব্যবহার করে নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এরপর জাপানের কামিওকান্ডে ও সুপার-কামিওকান্ডে পরীক্ষাগারে বিশালাকার পানির ট্যাংকের মাধ্যমে নিউট্রিনোর বিভিন্ন রূপভেদ ও এদের রূপান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
বর্তমানে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। আন্টার্কটিকায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি বরফের নিচে এবং ভূমধ্যসাগরের তলদেশে কেএমথ্রিএনইটি (KM3NET) টেলিস্কোপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে চালু হওয়া চীনের জিয়াংমেন আন্ডারগ্রাউন্ড নিউট্রিনো অবজারভেটরি (JUNO) নিউট্রিনো দোলন বা অসিলেশন সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভুল তথ্য প্রদান করছে। আগামী বছরগুলোতে জাপানের হাইপার-কামিওকান্ডে ও যুক্তরাষ্ট্রের ডিইউএনই (DUNE) প্রকল্পগুলো এই রহস্যময় কণা সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।