স্পেনে ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ণ সূর্যগ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউরোপে শুরু হয়েছে সূর্যগ্রহণের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আইবেরিয়ান সূর্যগ্রহণ ত্রয়ীর পরবর্তী দুটি ইভেন্ট আগের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালের এই দুটি সূর্যগ্রহণের জন্য এখন থেকেই পর্যটক ও গবেষকদের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৭ সালের শতাব্দীর দীর্ঘতম গ্রহণ
আগামী ২ আগস্ট ২০২৭ তারিখে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটবে। এই গ্রহণের চূড়ায় চাঁদ সূর্যকে টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ ঢেকে রাখবে। ১২ আগস্ট ২০২৬ সালে যে গ্রহণটি হয়েছে, তার স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের গ্রহণটি আগের চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় ধরে অন্ধকার তৈরি করবে, যা গত ১০০ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে।
এই গ্রহণের পথ শুরু হবে দক্ষিণ স্পেন ও উত্তর আফ্রিকা থেকে। এরপর এটি মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়া অতিক্রম করবে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র স্পেন থেকেই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। এছাড়া জিব্রাল্টার থেকেও এই দৃশ্য দেখা যাবে। মিশরের কার্নাক ও লুক্সর মন্দির এবং ভ্যালি অফ দ্য কিংস এলাকায় এই গ্রহণের দীর্ঘতম সময়কাল রেকর্ড করা হবে। তবে গিজার পিরামিড এলাকা থেকে শুধুমাত্র আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।
২০২৮ সালের রিং অফ ফায়ার
সিরিজের তৃতীয় সূর্যগ্রহণটি ঘটবে ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি। এটি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, যেখানে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে না ফেলে চারপাশ ঘিরে একটি উজ্জ্বল আগুনের বলয় বা রিং অফ ফায়ার তৈরি করবে। এই গ্রহণের পথ দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর, পেরু এবং ব্রাজিল হয়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পর্তুগাল ও স্পেনে গিয়ে শেষ হবে।
ব্রাজিলে এই বলয়টি প্রায় ১০ মিনিট ২৭ সেকেন্ড স্থায়ী হবে, যা শতাব্দীর দীর্ঘতম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণগুলোর একটি। এছাড়া স্পেনের সেভিল, কর্ডোবা, আলবাসেতে এবং ভ্যালেন্সিয়া শহরে সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রায় সাত মিনিটের জন্য এই দৃষ্টিনন্দন রিং অফ ফায়ার দেখা যাবে।