বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় হাইকোর্টের বেঞ্চ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা, টিকিট কালোবাজারি এবং ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনের মতো গুরুতর বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ট্রেনে ছাদে যাত্রী পরিবহন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুনানি চলাকালে আদালত রেল কর্মকর্তাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, রেলের সেবায় কেন এত অব্যবস্থাপনা থাকবে? কেন টিকিট কালোবাজারি হবে এবং কেন মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করবে? আদালত মন্তব্য করেন যে, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক এ এম সালাহউদ্দিন, পরিচালক (ট্রাফিক) মো. নাহিদ হাসান খান এবং সহজ ডটকমের কর্মকর্তা জুনাইদ হোসেন আদালতে উপস্থিত হয়ে রেলের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। রেল কর্মকর্তা এ এম সালাহউদ্দিন ছাদে যাত্রী পরিবহন রোধে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা জানালে আদালত পাল্টা প্রশ্ন করেন, ছাদে ভ্রমণকারীরা কি ভাড়া পরিশোধ করে? আদালত সতর্ক করে বলেন, ভাড়া দিলেও ছাদে যাত্রী পরিবহন করা দুর্নীতি এবং এটি যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে আদালত কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের কঠোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রোনির রেলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর আদালত এই স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক আদালতকে জানিয়েছেন, রেলের অব্যবস্থাপনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের কাজ চলছে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতকে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে অবহিত করতে রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।