যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও সংস্থাটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আইসিসির এই কর্মকর্তারা এমন সব কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন যা মার্কিন অবস্থান ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের পরিপন্থী।
নিষেধাজ্ঞার বিবরণ
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সব সম্পদ জব্দ করা হবে এবং মার্কিন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে না।
প্রেক্ষাপট
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও আদালতের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ায় দেশটির সরকার আদালতটির এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে আসছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আইসিসি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করছে এবং সার্বভৌম দেশগুলোর ওপর অযৌক্তিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের চেষ্টা করছে।
আইসিসির অবস্থান
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে জানিয়েছিলেন, বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার চাপ বা নিষেধাজ্ঞা আদালতের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচারে আদালত স্বাধীনভাবেই কাজ চালিয়ে যাবে।