ইসরায়েলের জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনারের বৈঠকে গাজায় হামাসের সদস্যদের ওপর ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রাখা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তার বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অটল মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বোর্ড অব পিসের নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা এবং ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শান্তি প্রস্তাবের বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবারের বৈঠকে কুশনার দাবি করেন, যারা সত্যিকার অর্থে তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করবে না, তাদের বিরুদ্ধে যেন ইসরায়েল সামরিক অভিযান না চালায়। তবে নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে হত্যার অভিযানে অবিচল থাকার কথা জানান। কুশনারের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এই আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে উপস্থিত দ্বিতীয় একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় বড় ধরনের হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, এটি হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই প্রাণঘাতী হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
গাজায় চলমান এই অভিযান ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির একাধিক শর্ত লঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড অব পিসের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই নীতি একদিকে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে হামাসের সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার যে পরিকল্পনা আগে নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করছে।