যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বড় ধরনের কৌশলগত সংকটের জন্ম দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবার্ট ম্যাজিনিসের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আইএনএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রণতরীকে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি এর প্রমাণ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি বিমানবাহী রণতরী সরিয়ে নেওয়ায় ওই অঞ্চলে চীনের মোকাবিলায় মার্কিন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা কৌশল ও সীমাবদ্ধতা
মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে সামরিক সরঞ্জাম, রসদ এবং জনবল মধ্যপ্রাচ্যে কেন্দ্রীভূত করতে হচ্ছে। পেন্টাগনের শীর্ষ অগ্রাধিকার থাকা সত্ত্বেও সীমিত সামরিক শক্তির কারণে ওয়াশিংটনকে এখন একই সময়ে দুটি বড় রণক্ষেত্রে সমানভাবে আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতার ঝুঁকি
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটি কেবল যুদ্ধের সক্ষমতা নয়, বরং চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অটুট রাখা। বেইজিংয়ের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা পর্যবেক্ষণ করছেন যে, ওয়াশিংটনের সামরিক মনোযোগ ও সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কতটা আটকে আছে। এর ফলে তাইওয়ানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আগ্রাসনের ঝুঁকি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য একাধিক রণক্ষেত্রে সামরিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জার্মানিবিরোধী লড়াইকে প্রাধান্য দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পেন্টাগনকে স্পষ্ট করতে হবে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তারা কোন মাত্রার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে তারা কীভাবে প্রভাব ধরে রাখবে। নৌবাহিনীর সীমিত রণতরী ও সক্ষমতার এই সংকট নিরসনে ওয়াশিংটনকে দ্রুত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে, নতুবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।