যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ওল্ড বন্ড স্ট্রিটে অবস্থিত রোলেক্সের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে একটি নকল ঘড়ি নিয়ে গিয়ে এর ব্রেসলেট ঠিক করার অনুরোধ জানান ওয়্যারড ম্যাগাজিনের সাংবাদিকরা। অবাক করা বিষয় হলো, রোলেক্সের কর্মীরা ঘড়িটি নকল কি না তা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন এবং অত্যন্ত যত্ন সহকারে ঘড়িটির ব্রেসলেট ঠিক করে দেন। এই ঘটনাটি বর্তমান বিশ্বের ‘সুপার ক্লোন’ বা নিখুঁত নকল ঘড়ির ক্রমবর্ধমান বাজারের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরাম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই নকল ঘড়িগুলোর কেনাবেচা পরিচালিত হচ্ছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চীনের বড় কারখানাগুলোতে উৎপাদিত এই ঘড়িগুলো ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা ওয়ারেন্টি, মেরামত সেবা এবং কাস্টমস থেকে ঘড়ি আটক হলে নতুন পণ্য দেওয়ার নিশ্চয়তাও দিচ্ছে।
রেডিট-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ‘রেপটাইম’ বা এই জাতীয় কমিউনিটিতে হাজার হাজার মানুষ নকল ঘড়ি নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে ঘড়ির মান নিয়ন্ত্রণ (QC) প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্রেতারা ঘড়ি কেনার পর সেগুলোর ছবি পোস্ট করে অভিজ্ঞদের মতামত নেন যে সেগুলো আসল কি না বা সেগুলো ব্যবহার করা উচিত কি না। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় বিশেষ সব কোড এবং কারিগরি শব্দ।
ঘড়ি বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান হেলউড জানান, বর্তমান সময়ের এই সুপার ক্লোন ঘড়িগুলো এতটাই উন্নত যে সেগুলোর সূক্ষ্ম কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে নকল ঘড়ির ভেতরের যন্ত্রাংশগুলোও আসলের মতো তৈরি করা হচ্ছে। তবে এগুলো নৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং ব্যবসায়িক জালিয়াতির বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নকল ঘড়ির এই বৈশ্বিক বাজার কোটি কোটি ডলারের। যদিও কিছু মানুষ ব্যক্তিগত শখের বশে বা নিরাপত্তার প্রয়োজনে আসল ঘড়ি বাড়িতে রেখে নকল ঘড়ি পরে বের হওয়ার যুক্তি দেন, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের চুরি। নকল ঘড়ি কেনার চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো ব্র্যান্ডের আসল ঘড়ি কেনা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত ও আনন্দদায়ক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।