যুক্তরাজ্যে গত মাসে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বিল বৃদ্ধির কারণে পরিবারের ওপর খরচের চাপ বেড়েছে। তবে অর্থনীতি বিষয়ক উপ-সম্পাদক ধারশিনি ডেভিড জানিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেও নতুন কোনো বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরির আশঙ্কা আপাতত কম।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সামান্য মূল্যবৃদ্ধি একটি সুস্থ ও সচল অর্থনীতির লক্ষণ। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরে এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রত্যাশার চেয়ে মুদ্রাস্ফীতির হার বেশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বর্তমানে মজুরি এবং সরকারি সুবিধাভোগীদের আয় মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি হারে বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়ে এনেছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতি নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও চ্যান্সেলর জন হিলির ওপর বাজেটের আগে বাড়তি সহায়তার চাপ তৈরি করবে। তবে যেকোনো সহায়তা প্রদান করতে গেলে সরকারকে কর বৃদ্ধি অথবা সরকারি খাতের বরাদ্দ কমানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অবস্থান
সুদের হারের পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে পড়তে সময় লাগে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে আসবে। খাদ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবং কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদের হার না বাড়ানোর পক্ষে মত দিচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে প্রত্যাশার চেয়ে বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি রাখে।