যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের লেক্সিংটন শহরে নিজের নবজাতক সন্তানকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী লেকেন স্নেলিং আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। নিজের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে ২২ বছর বয়সী স্নেলিং জানিয়েছেন, তিনি নিজেই শিশুর শ্বাসরোধ করেছিলেন। এই ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে কারণ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় রহস্য ছিল।
আদালতে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে স্নেলিং জানান, তিনি তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন এবং তার অজান্তেই সন্তান প্রসব হয়ে গিয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, সন্তানকে সহায়তা করার পরিবর্তে তিনি তার জীবন কেড়ে নেন এবং পরে সবকিছু পরিষ্কার করে ঘটনাটি গোপন রাখেন। বিচারক ডায়ান মিনিফিল্ড তাকে প্রশ্ন করলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট লেক্সিংটনের পুলিশ খবর পায় যে এক শিশুর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে আলমারির ভেতর লুকানো অবস্থায় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের তাপমাত্রা ছিল অত্যন্ত শীতল।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর স্নেলিং জানিয়েছিলেন, জন্মের পর তিনি নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনেছিলেন। তিনি তখন জ্ঞান হারিয়ে শিশুটির ওপর পড়ে গিয়েছিলেন এবং ঘুম ভাঙার পর দেখেন শিশুর শরীর নীল হয়ে গেছে। মৃত শিশুকে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন।
ফেইট কাউন্টি গ্র্যান্ড জুরি তাকে প্রথম মাত্রার নরহত্যাসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিম্বার্লি বেয়ার্ড জানান, সমঝোতার ভিত্তিতে স্নেলিং দোষ স্বীকার করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।