যুক্তরাজ্যের সমারসেট অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ ও খরার কারণে আপেল বাগানগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী সাইডার উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। হানির সাইডার এর কিম্বার্লি জোন্স জানিয়েছেন, তার বাগানে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ ফলন পাওয়া গেছে। অনেক গাছ থেকে ফল না আসায় বা অপরিপক্ব ফল ঝরে যাওয়ায় উৎপাদনকারীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বাগান মালিকদের মতে, গত দুই বছর ধরে চলমান খরার কারণে গাছগুলো প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে গাছগুলো শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ফল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে অথবা ফল পাকার আগেই তা ঝরে পড়ছে। কিম্বার্লি জোন্সের মতে, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কারণ তারা কেবলমাত্র নতুন সংগ্রহ করা আপেলের রস দিয়ে সাইডার তৈরি করেন এবং বাইরের কোনো কনসেন্ট্রেট ব্যবহার করেন না।
রিচ’স সাইডারের জর্জ স্কট জানান, অনেক বাগানে এত কম ফলন হয়েছে যে ফসল কাটার যন্ত্র নামানোর প্রয়োজনও পড়ছে না। স্বাভাবিক সময়ে যেসব বাগান থেকে ২০-৩০ টন আপেল পাওয়া যেত, সেখানে উৎপাদন এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অনেক উৎপাদক জানিয়েছেন, পানির অভাবে গাছের অবস্থা শোচনীয় এবং ভবিষ্যতে এই খরা আরও প্রকট হলে চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অরচার্ড পার্ক ফার্মের নীল ম্যাকডোনাল্ড জানান, তার বাগানের অর্ধেক ফসল ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ঝরে পড়া আপেলগুলো পচে যাওয়ায় তা সার হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে শুধু গর্ত খুঁড়ে চারা রোপণ করলেই চলত, কিন্তু এখন নতুন গাছের জন্য সেচ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে, চরম আবহাওয়া এখন আর অস্বাভাবিক কিছু নয় বরং এটিই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। শীতকালে পর্যাপ্ত ঠান্ডা না পাওয়ায় ডাবিনেট-এর মতো বিশেষ জাতের আপেল উৎপাদনও কম হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে সমারসেটের ঐতিহ্যবাহী সাইডারের স্বাদও বদলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।