বিশ্বজুড়ে বিটকয়েন মাইনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম সরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিয়ে যাচ্ছে। বিটকয়েন খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী এবং ইন্ডাস্ট্রি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির দামের অস্থিরতা এবং আয়ের অনিশ্চয়তা কাটাতে কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামো তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে অ্যানথ্রপিকসহ বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে এসব ক্রিপ্টো খনি মালিকরা।
কেন এই পরিবর্তন
বিটকয়েন মাইনিংয়ের জন্য প্রচুর শক্তিশালী কম্পিউটার এবং বিশাল ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হয়, যা এআই সিস্টেম চালানোর জন্যও অপরিহার্য। গত অক্টোবরে বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে বাজারে বড় ধরনের দরপতন ও আয়ের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে অনেক কোম্পানি তাদের মূল ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। এআই খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদী আয়ের নিশ্চয়তা খুঁজে পাচ্ছে, যা বিটকয়েন মাইনিং থেকে পাওয়া অনিশ্চিত আয়ের চেয়ে বেশি লাভজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
শিল্পের নতুন রূপান্তর
টেরাউলফ, কোর সায়েন্টিফিক, বিটডিয়ার এবং রিওট প্ল্যাটফর্মের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে তাদের ব্যবসার বড় অংশ এআই অবকাঠামোর দিকে সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রিওট প্ল্যাটফর্ম এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের সাথে ৯ বিলিয়ন ডলারের ২০ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি করেছে। কাজাখস্তানে বিশাল বিটকয়েন মাইনিং কেন্দ্র স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান এেনেগিক্সও এখন তাদের পুরো সক্ষমতা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ইয়েরবোলসিন সারসেনভ জানিয়েছেন, তারা তাদের অবকাঠামো এআই উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার বিটকয়েন মাইনিংয়ের অবকাঠামো এআই প্রযুক্তির উপযোগী করার পর সেখানে আর ফিরে যাওয়া কঠিন। কারণ, এআই কোম্পানিগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদী লিজ চুক্তি করা হয়, যা বিটকয়েন মাইনিংয়ের চেয়ে অধিক স্থিতিশীল। তবে বিটডিয়ারের মতো কিছু কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রকে সামঞ্জস্য রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যেখানে বিটকয়েন মাইনিংয়ের নমনীয়তা এবং এআই-এর দীর্ঘমেয়াদী আয়ের সমন্বয় থাকবে।