বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সাংবাদিকদের মারধরের পাশাপাশি ‘তোমরা লিখলে আমরা পেটাবো’ বলে হুমকি দিয়েছেন ওই যুবদল নেতা, যা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দ্য ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান, নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘শরীয়তপুরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সাংবাদিকরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আরিফুজ্জামান মোল্লা ও তার সমর্থকরা তাদের ওপর চড়াও হন।
জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বিধান মজুমদারকে মারধর ও লাথি মেরে ভবন থেকে বের করে দেয়া হয়।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুজ্জামান মোল্লা বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ দিতে পারে, তবে আমি মারবই। তোমরা লিখলে আমরা পেটাবো।
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম জানান, সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিবাদে তারা সমাবেশ করেছেন, তবে সেখানে সাংবাদিক মারধরের বিষয়ে তার জানা নেই। এদিকে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ও হুমকির বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।