বাংলাদেশের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি সীমান্তে ভারতের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে ভূখণ্ড অতিক্রম করে প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়েন। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর স্থানীয়দের তোপের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদের দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে দ্রুত ভারতের দিকে পালিয়ে যান। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে বনচৌকি সীমান্তের ৯০৭/২-এস সীমান্ত পিলারের কাছে কাঁটাতারবিহীন জিরো লাইনে গরু চড়ানোকে কেন্দ্র করে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের তিন জওয়ানের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিজিবিকে না জানিয়ে বিএসএফ সদস্যরা আইন অমান্য করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বিজিবিকে জানান এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিএসএফ সদস্যদের বাধা দেন। পরিস্থিতির চাপে বিএসএফ জওয়ানরা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি ফেলে পিছু হটতে বাধ্য হন।
পতাকা বৈঠক ও অস্ত্র হস্তান্তর
ঘটনার পরপরই বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। একইসঙ্গে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে অবৈধ অনুপ্রবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়।
ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সীমান্ত পিলার ৯০৭/৪-এস এলাকায় দুই বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি কঠোর ভাষায় বিএসএফের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে ঝামেলার বিষয়টি তুলে ধরে। জবাবে বিএসএফের কমান্ড্যান্ট এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দেন। সরকারি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে উদ্ধার করা অস্ত্র ও ওয়াকিটকি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।