যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন হোলে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতির চাপ না কমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কাজ করতে হবে। বার্ষিক অর্থনৈতিক নীতি সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রীষ্মকালে মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। ওয়ার্শ জানান, মুদ্রাস্ফীতি যদি দ্রুত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না নামে, তবে সুদের হার বাড়ানো ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কোনো উপায় থাকবে না। ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতি নির্ধারণী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ভবিষ্যৎ নীতিমালা ও বাজার পরিস্থিতি
ওয়ার্শ তার বক্তব্যে সুদের হার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে বাজারকে আগাম সংকেত দেওয়ার যে পদ্ধতি চালু হয়েছিল, তা এখন আর কার্যকর নয়। তার এই বক্তব্যের পর বাজারে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। সুদের হার বাড়ানো হলে তা বন্ধকী ঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।