যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের আইকান স্কুল অব মেডিসিন অ্যাট মাউন্ট সিনাইয়ের গবেষকরা স্নায়ুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেন দ্রুত সেরে উঠতে পারে না, তার মূল কারণ উদ্ঘাটন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যারিল হাইড্রোকার্বন রিসেপ্টর’ (AHR) নামক একটি প্রোটিন স্নায়ুর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি ‘ব্রেক’ বা গতিরোধক হিসেবে কাজ করে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই ফলাফল ভবিষ্যতে মেরুদণ্ড বা স্নায়ুর আঘাতজনিত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
স্নায়ুকোষ বা নিউরনের দীর্ঘ অংশ হলো অ্যাক্সন, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়। এই অ্যাক্সন ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্নায়ু স্বাভাবিক যোগাযোগ ক্ষমতা হারায়। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে স্নায়ুর এই পুনর্গঠন ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অনেক সময় আঘাতজনিত সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং নিউরোসার্জারি ও নিউরোসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক হংইয়ান জু বলেন, আঘাত পাওয়ার পর নিউরনগুলো একই সঙ্গে বেঁচে থাকা এবং ক্ষত সারানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। তারা লক্ষ্য করেছেন, AHR প্রোটিনটি স্নায়ুকে ক্ষত সারানোর বদলে কেবল টিকে থাকার মানসিকতায় আটকে রাখে।
গবেষকরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখেছেন, যখন ওষুধের মাধ্যমে AHR প্রোটিনের সক্রিয়তা বন্ধ করা হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুগুলো সফলভাবে পুনরায় বাড়তে শুরু করে। এতে ইঁদুরগুলোর চলাচলের ক্ষমতা এবং অনুভূতি ফিরে পাওয়ার হারও উন্নত হয়েছে।
মূলত আঘাত পাওয়ার পর নিউরনগুলো কোষের অভ্যন্তরীণ চাপ সামলাতে গিয়ে প্রোটিন পুনর্গঠনের কাজটি ধীর করে দেয়। AHR এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। এই প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করলে নিউরনগুলো প্রোটিন তৈরির গতি বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষত সারানোর দিকে মনোযোগ দেয়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যেহেতু বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় AHR প্রতিরোধকারী ওষুধ নিয়ে ইতিমধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে, তাই স্নায়ুর আঘাতের চিকিৎসাতেও এগুলো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রোগীদের ওপর প্রয়োগের আগে আরও বিস্তারিত গবেষণা এবং ওষুধের সঠিক মাত্রা ও সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষক দল।