যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে এমন এক নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য গ্যাজেট বা ওয়্যারেবল ডিভাইসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা ব্যবহারকারীকে সারাদিন কোনো ধরণের নোটিফিকেশন দিয়ে বিরক্ত করে না। গারমিন সার্কা, গুগল ফিটবিট এয়ার, পোলার লুপ, আম্যাজফিট হেলিও স্ট্র্যাপ এবং হু্পের মতো ডিভাইসগুলো এখন মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। এসব ডিভাইসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোতে কোনো স্ক্রিন নেই এবং এগুলো ব্যবহারকারীর কাছ থেকে খুব একটা মনোযোগ দাবি করে না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে মানুষ স্মার্টওয়াচ বা সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত নোটিফিকেশনে ক্লান্ত। এই নতুন ধারার গ্যাজেটগুলো সেই সমস্যা সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন অনেকে। ডিভাইসগুলো দিনরাত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করলেও তা দেখার জন্য ব্যবহারকারীকে স্মার্টফোনের অ্যাপে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাও কেবল নিজের সুবিধামতো সময়ে।
কেন এই পরিবর্তন
আধুনিক স্মার্টওয়াচগুলোতে এখন অডিও-ভিজ্যুয়াল নোটিফিকেশন, ইমেইল বা মেসেজের চাপে ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল স্ট্রেস বা চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলিজাবেথ মার্শ জানান, ক্রমাগত ডিজিটাল সরঞ্জামের ব্যবহার উদ্বেগ ও মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্ক্রিনহীন এসব ট্র্যাকার ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল গোলকধাঁধা থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারে।
এআই-এর ভূমিকা
এই নতুন ঘরানার গ্যাজেটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। গুগল ফিটবিটের মতো ডিভাইসগুলোতে সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে স্বাস্থ্যগত তথ্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই-এর ভূমিকা কেবল তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, যাতে তা ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় নতুন কোনো উত্তেজনার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
ডিজিটাল মাইন্ডফুলনেস
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ‘ডিজিটাল মাইন্ডফুলনেস’ বা সচেতন ব্যবহারের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। স্মার্টওয়াচের স্ক্রিন দেখে বারবার সময় নষ্ট করার চেয়ে, কোনো নোটিফিকেশনহীন ডিভাইস ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। এটি ব্যবহারকারীকে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা বর্তমান সময়ের অতি-প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে এক নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।