রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার আট দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদক শনাক্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন ও নমুনা সংগ্রহ
গত রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে ডিবি পুলিশ ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনোলজিস্টের উপস্থিতিতে আসামিদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কারাগারের বাইরে নিলে মব বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কারাগারের ভেতরেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সোমবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এই পরীক্ষার প্রতিবেদন ডিবি পুলিশের হাতে পৌঁছায়।
তদন্ত ও পুলিশের ভাষ্য
আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার আগে ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে আট দিন পর নমুনা নেওয়ায় মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ। উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা সম্ভব হলে মাদকের অস্তিত্ব ধরা পড়ত। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটভূমি
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।