যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের সমারভিল শহরে বসবাসরত ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ওপর চালানো এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরে এইচইপিএ (HEPA) এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহারের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক নিকোলাস পেলেগ্রিনো, ডাগ ব্রুগ এবং মিশা এলিয়াসিউ জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ বাতাস মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণার পটভূমি
সমারভিল এলাকাটি দুটি বড় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ট্রাফিক-জনিত বায়ু দূষণের মাত্রা বেশ বেশি। এই বিষয়টি গবেষণার জন্য এলাকাটিকে উপযুক্ত করে তুলেছে। গবেষকরা ১১৯ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করে এক মাস আসল এয়ার পিউরিফায়ার এবং অন্য এক মাস ফিল্টারহীন নকল পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।
প্রাপ্ত ফলাফল
পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ বছর ও তার বেশি বয়সী অংশগ্রহণকারীরা বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়ার পর তাদের মানসিক নমনীয়তা এবং কার্যনির্বাহী ক্ষমতার পরীক্ষায় ১২ শতাংশ দ্রুত ফলাফল প্রদর্শন করেছেন। গবেষকদের মতে, এই উন্নতি দৈনন্দিন শরীরচর্চার মাধ্যমে পাওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক সুবিধার সমতুল্য। দূষিত বায়ুতে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলো মস্তিষ্ক ও স্নায়বিক রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা এইচইপিএ ফিল্টার সহজেই অপসারণ করতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বায়ু দূষণ খুব অল্প সময়ের সংস্পর্শেও মানুষের মানসিক কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী নিম্নবিত্ত বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা এই ঝুঁকির মুখে বেশি থাকেন। গবেষণার ফলাফল বলছে, ঘরোয়া পরিবেশে বায়ু পরিষ্কার রাখার সাধারণ পদ্ধতিই দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক অবনতি রোধে সহায়ক হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষকরা এখন এটি জানার চেষ্টা করছেন যে, বায়ু দূষণ কীভাবে মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটার বা সাদা অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বায়ু শোধনের মাধ্যমে সেই ক্ষতি কতটুকু পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের ওপর এর প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে বোঝার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।