বাংলাদেশে একসময় চিঠিপত্র ছিল সম্পর্কের প্রধান সেতুবন্ধন। সৌদি আরবে কর্মরত বাবার পাঠানো চিঠির অপেক্ষায় থাকা সপ্তম শ্রেণীর এক শিশুর স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে আজকের প্রজন্মের যোগাযোগের চিত্র ফুটে উঠেছে। তখনকার দিনে লাল-নীল বর্ডারের খাম আর বাবার হাতের লেখা ছিল পরম প্রাপ্তি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে চিঠি কেবল জাদুঘরের কোনো প্রদর্শনীর মতো বিষয়, যেখানে তারা প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপ বা ভিডিও কলে অভ্যস্ত।
চিঠি লেখার পেছনে যে ধৈর্য ও সময়ের প্রয়োজন ছিল, তা আজকের টেক্সট মেসেজের যুগে নেই। গবেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদান যোগাযোগকে সহজ করলেও সম্পর্কের গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে। হাতে লেখা চিঠিতে লেখকের যে ব্যক্তিত্ব ও আন্তরিকতা ফুটে উঠত, স্ক্রিনে পড়া বার্তায় সেই অনুভূতি পাওয়া কঠিন। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের হাতের লেখার সাথে তার ব্যক্তিত্বের এক গভীর সংযোগ থাকে, যা মস্তিষ্ককে ভিন্নভাবে উদ্দীপ্ত করে।
বর্তমানে ডাকঘরে ব্যক্তিগত চিঠির পরিবর্তে মূলত সরকারি নথি ও কুরিয়ার সার্ভিসের প্যাকেট বেশি আসে। তবুও চিঠি লেখার সংস্কৃতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। শখের বশে এখনো অনেকে বিশেষ দিনে হাতে লেখা কার্ড বা চিঠি আদান-প্রদান করেন। প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, মানুষের মনে স্পর্শযোগ্য স্মৃতি ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা এখনো অমলিন রয়ে গেছে।