যুক্তরাজ্যের নর্থ ইয়র্কশায়ারের স্কারবোরোতে বিএন্ডবি (বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট) ব্যবসার মালিক জেমস রাসডেন পর্যটক কর বা ভিজিটর লেভি চালু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, নর্থ ইয়র্কশায়ারে এই কর চালু হলেও প্রতিবেশী ইস্ট ইয়র্কশায়ারে তা না থাকলে ব্যবসায়ীরা একটি অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। পর্যটন কর সংক্রান্ত প্রস্তাবনা নিয়ে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে এবং চলতি বছরের শেষের দিকে এ সংক্রান্ত আইন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেমস রাসডেন, যিনি স্কারবোরোর টুলসন কোর্ট বিএন্ডবি পরিচালনা করেন, জানান যে দেশজুড়ে অভিন্ন নিয়ম না থাকলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে পর্যটকরা এমন জায়গায় ভ্রমণ করবেন যেখানে কোনো অতিরিক্ত কর নেই। তিনি এই লেভিকে এক ধরনের বাড়তি কর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যদি করটি জাতীয়ভাবে কার্যকর করা হতো তবে তা পরিচালনা করা সহজ হতো এবং কোনো অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বৈষম্যের শিকার হতেন না।
নর্থ ও ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের নির্বাচিত লেবার মেয়র ডেভিড স্কেইথ এই পর্যটক করকে পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, পর্যটন থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থানীয় উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে। তবে ইস্ট ইয়র্কশায়ারের মেয়র লুক ক্যাম্পবেল এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, তাদের অঞ্চলের জন্য এটি সঠিক কৌশল নয়।
এদিকে ইয়র্ক সেন্ট জন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ব্রেন্ডান প্যাডিসন পর্যটন শিল্পের সাথে নীতিনির্ধারণী আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ যেন নির্দিষ্ট কোনো খাতে ব্যয় নিশ্চিত করা হয়, তা পর্যটন ব্যবসায়ীরা দেখতে চান।
স্কারবোরোর দর্শনার্থীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, করটি জাতীয় পর্যায়ে অভিন্ন হলে তারা আপত্তি করবেন না, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় কর আরোপ করা হলে পর্যটকরা বিকল্প গন্তব্য খুঁজে নেবেন। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও তহবিল হস্তান্তরের বিষয়ে কাজ করছে, যাতে স্থানীয় সম্প্রদায় পর্যটন থেকে প্রাপ্ত সুফল ভোগ করতে পারে।