যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসি ডেভিস হেলথ ও কাইজার পারমানেন্টের গবেষকরা জানিয়েছেন, ৯০ বছর বয়স হওয়ার পরেও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি থেকে মানুষ পুরোপুরি মুক্ত থাকে না। লাইফআফটার৯০ প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চরম বার্ধক্যে পৌঁছেও লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয় এবং বংশগতি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে এবং ২১০০ সাল নাগাদ ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৩ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
গবেষণাটিতে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সী আট শতাধিক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া জাতিগত পার্থক্যের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এশিয়ানদের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি ঝুঁকি পরিলক্ষিত হয়েছে। হিলারি কোলবেথ নামের এক গবেষক জানান, বয়স নব্বই পার হওয়ার পরেও বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ডিমেনশিয়ার এই বৈষম্য বজায় থাকাটি বেশ উদ্বেগজনক।
বংশগতির প্রভাব হিসেবে অ্যাপোই (APOE) জিনের ভূমিকাও এই গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়েছে। অ্যাপোই-২ নামক ভেরিয়েন্টটিকে সুরক্ষামূলক হিসেবে দেখা হয়, যা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, অ্যাপোই-৪ জিনের উপস্থিতির কারণে ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে পুরুষ ও কৃষ্ণাঙ্গ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি দেখা গেছে।
গবেষক র্যাচেল হুইটমার বলেন, চিকিৎসকদের মনে রাখতে হবে যে ৯০ বছর বয়স পার করলেই কেউ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যান না। অনেক অংশগ্রহণকারী ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পরেও ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। গবেষকরা এখন সেই জৈবিক ও পরিবেশগত কারণগুলো খুঁজছেন, যা তাদের মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় সুরক্ষিত রেখেছে। এটি ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।