যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানিয়েছেন, কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে চমকপ্রদ ভূমিকা রাখতে পারে। সেল মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন স্থূলতা, প্রি-ডায়াবেটিস এবং লিভারের অতিরিক্ত চর্বিতে আক্রান্ত ৪২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, কিটো ডায়েট অনুসরণকারী ব্যক্তিদের লিভারের চর্বি ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যেখানে অন্যান্য ডায়েট অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করে কিটো ডায়েট, মেডিটেরানিয়ান ডায়েট এবং স্বল্প চর্বিযুক্ত উদ্ভিদভিত্তিক ডায়েট দেওয়া হয়। গবেষণার প্রধান পর্যবেক্ষক ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ইলেনা মুহলস্টাইন জানান, কেবল ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং খাদ্যের উপাদানের ধরনও স্বাস্থ্যের পরিবর্তনে ভিন্ন ভূমিকা রাখে। কিটো ডায়েট গ্রহণকারীদের লিভারে চর্বি তৈরির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং তাদের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা অন্যান্য গ্রুপের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিটো ডায়েট অনুসরণকারী প্রায় ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ দূর হয়েছে। যেখানে মেডিটেরানিয়ান ডায়েট অনুসরণকারীদের মধ্যে ২৯ শতাংশ এবং স্বল্প চর্বিযুক্ত ডায়েট অনুসরণকারীদের মধ্যে ৭ শতাংশের প্রি-ডায়াবেটিস দূর হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, লিভারের চর্বি কমাতে এই ডায়েট বেশ কার্যকর।
পুষ্টিবিদ ইলেনা মুহলস্টাইন আরও বলেন, কিটো ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এতে উচ্চ মাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় হৃদরোগের ঝুঁকি বিবেচনায় স্বল্প সময়ের জন্য এটি গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে কিটো ডায়েট কাজে লাগানোর পর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য মেডিটেরানিয়ান ডায়েটে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।