যুক্তরাজ্যের ভোক্তাদের আসন্ন শীতকালে জ্বালানি বিল বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো শীতের আগেই প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু ও পণ্য অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসেন জানিয়েছেন, গ্যাস ও তেলের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বর্তমানে ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ৭৫ ইউরো ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের শেষের দিকের পর সর্বোচ্চ। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যেও, যেখানে প্রতি থার্ম গ্যাসের দাম ১৮৫ পেনি অতিক্রম করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে এই সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কর্নওয়াল ইনসাইটের পরামর্শক ড. ক্রেইগ লরি জানান, পাইকারি বাজারের এই পরিস্থিতি জানুয়ারিতে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা বা প্রাইস ক্যাপের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যদিও সরকারি সংস্থা ডেসএনজেড জানিয়েছে, গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল এবং সরকার এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন শীতের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর গ্যাসের চাহিদার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে। যদি শীত তীব্র হয়, তবে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ গ্যাস মালিক সেন্ট্রিকার প্রধান ক্রিস ও’শে গ্যাস মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, কারণ বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।